অদ্বৈত বেদান্ত বনাম বৌদ্ধ বিজ্ঞানবাদ এবং ক্ষণভঙ্গবাদের স্বরূপ

কৈলাস পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত মানস সরোবরের চঞ্চল স্রোতধারাই হলো কুমারব্রহ্মার বিজ্ঞানস্রোতমূর্তি। এই ‘বিজ্ঞান’ শব্দটির অর্থ বুঝতে গেলে অদ্বৈত বেদান্ত এবং বৌদ্ধ দর্শনের মৌলিক পার্থক্যের গভীরে প্রবেশ করতে হবে। অদ্বৈত বেদান্তে বিজ্ঞান বা চেতনা হলো পরম ব্রহ্মের স্বরূপ— যা কূটস্থ, নিত্য, অপরিবর্তনীয় এবং স্থির। কিন্তু বৌদ্ধ দর্শনে ‘বিজ্ঞান’ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অর্থ বহন করে। বৌদ্ধ মতানুসারে, জীবের অস্তিত্ব পাঁচটি স্কন্ধের (রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার এবং বিজ্ঞান) সমষ্টিমাত্র। এর মধ্যে অন্তিম স্কন্ধটিই হলো বিজ্ঞান বা চেতনা। এই বিজ্ঞান কোনো শাশ্বত আত্মা নয়, বরং এটি একটি অবিরাম প্রবহমান স্রোত। জীবের অন্তরের যাবতীয় সংস্কার ও কর্মফল এই বিজ্ঞানের মাধ্যমেই এক নশ্বর দেহ থেকে অপর নশ্বর দেহে প্রবাহিত হয়, যাকে পালি অভিধম্মে ‘ভবঙ্গ-সোত’ বা ভবতার স্রোত বলা হয়েছে।
বৌদ্ধ দর্শনের এই ক্ষণভঙ্গবাদ বা মুহূর্তবাদের মূল কথাই হলো— জগতে কোনো কিছুই স্থির নয়। দীপশিখা যেমন প্রতিনিয়ত কম্পমান থাকে, তারার আলো যেমন স্পন্দিত হয়, মানুষের চিত্তেও ঠিক সেভাবেই একটি চিন্তা উদিত হয় এবং পরমুহূর্তেই তা বিলীন হয়ে অন্য এক চিন্তার জন্ম দেয়। দূর থেকে প্রদীপের শিখাকে একটি অবিচ্ছিন্ন ও স্থির আলো বলে মনে হলেও, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখলে বোঝা যায় প্রতি মুহূর্তেই দগ্ধ তেলের মাধ্যমে একটি নতুন শিখার জন্ম হচ্ছে। এই মুহূর্তের শিখা আর পরমুহূর্তের শিখা কখনোই এক নয়। নদীর স্রোতের উপমাটিও এক্ষেত্রে অমোঘ। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আপনি যে স্রোতকে এই মুহূর্তে স্পর্শ করছেন, পরমুহূর্তের স্রোতটি সম্পূর্ণ নতুন; বিগত স্রোতটির আর কোনো অস্তিত্ব সেখানে নেই। জীবের চিত্ত বা বিজ্ঞানও ঠিক এই নদীর স্রোতের মতোই অস্থির এবং সদাপরিবর্তনশীল।

নৈরঞ্জনার স্রোত এবং বোধিসত্ত্বের উজানযাত্রা

ক্ষণভঙ্গবাদের এই অস্থির তরঙ্গের উপরই দাঁড়িয়ে আছে আচার্য ধর্মকীর্তিশ্রী প্রমুখ দার্শনিকদের সুবিশাল তত্ত্ব। বৌদ্ধ দর্শনে স্রোতের এই অন্তর্নিহিত গুরুত্ব অনুধাবন করতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে নৈরঞ্জনা নদীর তীরে, সিদ্ধার্থ গৌতমের বোধিলাভের ঠিক পূর্ববর্তী মুহূর্তে। দীর্ঘ কঠোর তপস্যায় শ্রান্ত ও শীর্ণ সিদ্ধার্থ যখন বুঝতে পারলেন যে দেহকে কষ্ট দিয়ে মুক্তিলাভ সম্ভব নয়, তখন তিনি সুজাতার দেওয়া পরমান্ন বা পয়সান্ন গ্রহণ করে নৈরঞ্জনার জলে অবগাহন করলেন। কিংবদন্তি রয়েছে, সেই সময়ে কোনো এক অজ্ঞাত বীণাবাদক (অনেকের মতে স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্র) তাঁর বীণার তারে ঝংকার তুলে সিদ্ধার্থকে ‘মধ্যম মার্গ’ বা চরম পন্থার বর্জনের শিক্ষা দিয়েছিলেন। তার বেশি কষলে ছিঁড়ে যায়, আবার ঢিলে দিলে সুর বাজে না— সাধনার পথও ঠিক তেমনই হওয়া উচিত।
আহার গ্রহণের পর সিদ্ধার্থ তাঁর শূন্য পাত্রটি নৈরঞ্জনার জলে ভাসিয়ে দিয়ে সংকল্প করলেন, যদি তাঁর তপস্যা সিদ্ধির পথে থাকে, তবে এই পাত্রটি স্রোতের অনুকূলে না গিয়ে প্রতিকূলে ভাসবে। আশ্চর্যজনকভাবে, বাটিটি স্রোতের বিপরীতে ঘুরে তাঁর কাছে ফিরে এল। এই অলৌকিক ঘটনাটি নিছক কোনো ম্যাজিক নয়, এটি সমগ্র বৌদ্ধ সাধনার এক গভীর রূপক। সংসারের সাধারণ নিয়ম হলো প্রবৃত্তি মার্গ— যা মাধ্যাকর্ষণের টানে নদীর জলের মতো সর্বদা নিম্নগামী। মানুষের বাসনা, তৃষ্ণা ও চিত্তবৃত্তি স্বাভাবিকভাবেই এই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়। কিন্তু পর্বত থেকে নেমে আসা এই স্রোতস্বিনীর বিপরীতেই হলো ভাবী বুদ্ধের গন্তব্য। তিনি প্রবৃত্তি বা বাসনার স্রোতকে ছিন্ন করে উজানগামী বা ‘নিবৃত্তি মার্গ’-এর পথিক হলেন। তাঁর গন্তব্য হলো সেই পরম কৈবল্য বা নির্বাণ, যা ভবতার স্রোতের ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থিত।

অভয়দ্বীপ কৈবল্য এবং হিরণ্যগর্ভের অষ্টগুণ

আচার্য উদ্ভটস্বামী তাঁর ‘সর্বজ্ঞমহেশ্বর স্তব’-এ তিব্বতি শ্লোকের মাধ্যমে এক অপূর্ব চিত্রকল্প নির্মাণ করেছেন। শ্লোকটির আক্ষরিক অর্থ হলো, ঋদ্ধিপাদসম্পন্ন অণ্ডজের অষ্টবিধ গুণতরঙ্গে তাঁর মহা-অভয় দ্বীপ বেষ্টিত এবং করুণার জলে দোলায়িত তাঁর প্রবেশদ্বার সতত সম্যকশুদ্ধ। এখানে ‘অণ্ডজ’ বলতে হিরণ্যগর্ভ ব্রহ্মাকে বোঝানো হয়েছে। তাঁকে কেন তরঙ্গের সঙ্গে তুলনা করা হলো এবং কেনই বা তিনি অষ্টবিধ গুণসম্পন্ন, তার উত্তর লুকিয়ে আছে পালি ত্রিপিটকের সুত্তনিপাতে।
সুত্তনিপাতে ব্রাহ্মণ কপ্পকের এক প্রশ্নের উত্তরে ভগবান বুদ্ধ বলছেন যে, জরামরণ ও সংসাররূপী এক মহাভয়ঙ্কর প্লাবনের মাঝখানে একটি দ্বীপ দণ্ডায়মান আছে। সেই দ্বীপে জরা, ব্যাধি বা মৃত্যু প্রবেশ করতে পারে না। অনন্ত ভবসমুদ্রে ওই একটিমাত্রই দ্বীপ রয়েছে, যা সকল বিকল্প ও বিকারের অতীত; তাই একে ‘অনাপরং’ বলা হয়েছে। বুদ্ধ স্বয়ং এই অভয়দ্বীপটিকে ‘নির্বাণ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
অষ্টগুণপাদসম্পন্ন অণ্ডজ বা হিরণ্যগর্ভ ব্রহ্মা তরঙ্গায়িত রূপ ধারণ করে সেই পরম অভয়দ্বীপকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছেন। এই তরঙ্গ আর কিছুই নয়, এটি হলো জাড্য বা মূর্খতা বিনাশকারী দেবী সরস্বতীর প্রবহমান রূপ। মহাযান ও বজ্রযান বৌদ্ধধর্মে কুমারভূত মঞ্জুশ্রী হলেন এই প্রজ্ঞারই মূর্ত প্রতীক। মঞ্জুশ্রী হলেন বুদ্ধের কণ্ঠ থেকে নিঃসৃত অমোঘ বাণী। বুদ্ধ কখনোই ব্রহ্মস্বর ব্যতীত ধর্মদেশনা করেন না। এই ব্রহ্মস্বরের আটটি সুনির্দিষ্ট গুণ রয়েছে— এটি সুস্পষ্ট, সকলের বোধগম্য, শ্রুতিমধুর, শ্রবণযোগ্য, সংহত, সুসংবদ্ধ, লঘুত্ববর্জিত গভীর এবং অনুরণনশীল।
অনুরূপভাবে, অমিতাভ বুদ্ধের সুখাবতী ভুবনের পবিত্র জলেরও আটটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান— তা শীতল, বিমল, সুস্বাদু, মৃদু, প্রসন্ন, শান্ত, ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিবারক এবং সর্বেন্দ্রিয়ের প্রমোদজনক। উদ্ভটস্বামী তাঁর দিব্যদৃষ্টিতে অমিতাভের সুখাবতীর এই অষ্টগুণোপেত জল এবং বুদ্ধের অষ্টগুণপাদসম্পন্ন ব্রহ্মস্বরকে মিলিয়ে মানস সরোবরের রূপ কল্পনা করেছেন। মানস সরোবরের ঠিক কেন্দ্রস্থলে দণ্ডায়মান কৈলাস পর্বতটিই হলো সেই অভয়দ্বীপ, সেই কৈবল্যকুট সুখাবতী বা ভগবানের চিরস্থায়ী বাসস্থান। সেখানে অমিতাভ মহেশ্বরের রূপ ধারণ করে বসে অবিরাম ধর্মদেশনা করে চলেছেন। জগতের প্রতি তাঁর অসীম করুণার রোদনই ব্রহ্মস্বর রূপে মানস সরোবরের জলে টলটল করছে। বুদ্ধ বলেছিলেন, যাদের ধর্ম শ্রবণের সদিচ্ছা উৎপন্ন হয়েছে এবং যারা সেই স্রোতে অবগাহন করেছে, তাদের জন্য অমৃতের দ্বার চিরতরে উন্মুক্ত। শ্রুতি (যা শোনা যায়) এবং স্রোত (যা প্রবাহিত হয়) দর্শনগতভাবে অভিন্ন। নাদব্রহ্মরূপী শুদ্ধকুমার বা বোধিচিত্ত তাঁর একের পর এক জ্ঞানতরঙ্গের মাধ্যমে সাধককে ক্রমাগত ঠেলে নিয়ে যান পরম পিতার সেই অভয়দ্বীপের দিকে।

শূন্যতার মেঘ এবং বজ্রযানের রূপান্তর তত্ত্ব

জনৈক লামা ধ্যানের সময় আকাশের মেঘ পর্যবেক্ষণ করার যে উপদেশ দিয়েছিলেন, তার মধ্যেও রয়েছে এক গূঢ় দার্শনিক তাৎপর্য। তথাগত বুদ্ধের শূন্যতা বা নৈরাত্ম্যবাদের বুকে ক্ষণিক চিত্তরূপী কুমার (মঞ্জুশ্রী বা প্রজ্ঞা) হলেন ওই ভাসমান মেঘেরই উপমা। বৈদিক সাহিত্যেও মেঘকে পর্বতের বা গিরির সমার্থক হিসেবে ধরা হয়েছে। মেঘ থেকেই বৃষ্টির বারিধারা ঝরে এবং তা থেকেই বজ্রের বাণীর অনুরণন সৃষ্টি হয়। চাতক পাখি যেমন বৃষ্টির আশায় মেঘের দিকে চেয়ে থাকে, তৃষ্ণার্ত সংসারও তেমনই বুদ্ধের বাণীরূপী সরস্বতীর দিকে চেয়ে থাকে।
বুদ্ধের সরস্বতী বা ধর্মদেশনা এতই সুমিষ্ট যে, একবার তা কণ্ঠে ধারণ করলে ভবসমুদ্রের লবণাক্ত জলে জীবের আর কোনো রুচি থাকে না। লবণাক্ত জল পানের তৃষ্ণা মেটানোর পরিবর্তে তাকে আরও বাড়িয়ে তোলে, ঠিক যেমন জাগতিক বাসনা কখনোই তৃপ্ত হয় না। কিন্তু কুমাররূপী প্রজ্ঞা সাধককে যে দিব্য অনুরাগে আবদ্ধ করেন, তা জাগতিক ক্ষুধা ও তৃষ্ণার চিরস্থায়ী অপহারক। এখানেই বজ্রযান তন্ত্রের মূল সূত্রটি নিহিত। বজ্রযানে বলা হয়েছে, বিষের দ্বারাই বিষকে ক্ষয় করতে হয়। রাগের দ্বারাই অনুরাগকে জয় করতে হয়। তাই কুমার প্রজ্ঞা স্বয়ং বৈরাগ্যের চরম বিপ্রতীপ (অত্যন্ত চটুল ও প্রাণবন্ত) হয়েও সাধকদের কাছে পরম পূজ্য। বিষ দিয়ে বিষ, দ্বেষ দিয়ে দ্বেষ এবং কামের দ্বারাই কামকে জয় করার এই গুপ্ত বিদ্যা কুমারই সাধককে শিক্ষা দেন।

ধর্মকীর্তি, জয়ন্ত ভট্ট এবং এক দার্শনিক প্রণয়োপাখ্যান

বৌদ্ধ ক্ষণভঙ্গবাদের এই অসীম চঞ্চলতার কারণেই আচার্য ধর্মকীর্তিশ্রীকে হিন্দু নৈয়ায়িক এবং মীমাংসকদের কাছ থেকে প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। নৈয়ায়িক জয়ন্ত ভট্ট অত্যন্ত কদর্য ভাষায়, নাম উহ্য রেখে ক্ষণভঙ্গবাদকে আক্রমণ করেছিলেন। জয়ন্ত ভট্টের যুক্তি ছিল, যারা মনে করে জগতের সবকিছুই ক্ষণিক এবং পরমুহূর্তেই তা বিলীন হয়ে যায়, তারা কোনো নারীসঙ্গেও লিপ্ত হতে পারে না। কারণ সঙ্গম বা উপভোগের জন্য যে স্থায়িত্বের প্রয়োজন, ক্ষণভঙ্গবাদে তার কোনো স্থান নেই। জয়ন্ত ভট্ট কার্যত ক্ষণভঙ্গবাদকে শীঘ্রপতন বা অকালস্খলনের সমান্তরালে দাঁড় করিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন।
জয়ন্ত ভট্টের এই কুরুচিকর আক্রমণের মূলে ছিল ধর্মকীর্তিশ্রীর রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যপঙ্ক্তি। ধর্মকীর্তি লিখেছিলেন যে, নারীসঙ্গ অত্যন্ত চপল, তা স্বপ্নের ন্যায় মায়াময় এবং পরিণামে অতিশয় বিরস; শতবার এই দার্শনিক তত্ত্ব নিজেকে বোঝানো সত্ত্বেও অন্তরাত্মা সেই ‘হরিণাক্ষী’ বা হরিণনয়না সুন্দরীকে কিছুতেই বিস্মৃত হতে পারে না। সাধারণ দৃষ্টিতে এটি একজন ব্যর্থ প্রেমিকের আক্ষেপ মনে হলেও, জয়ন্ত ভট্ট বুঝতে পারেননি ধর্মকীর্তিশ্রীর এই হরিণাক্ষী মানসী আসলে কে ছিলেন।
কার সঙ্গম ধর্মকীর্তিশ্রী এড়াতে চাইতেন এবং কাকে তিনি তাঁর সর্বস্ব দিয়ে ভালোবেসেছিলেন? সেই হরিণাক্ষী নারী অন্য কেউ নন, তিনি হলেন স্বয়ং দেবী সরস্বতী বা বৌদ্ধ প্রজ্ঞাপারমিতা। সরস্বতী বা প্রজ্ঞা চিরকালই জাড্য ও স্থিরতার ঘোর বিরোধী। চপল মানসতরঙ্গে, অর্থাৎ অবিরাম জ্ঞানান্বেষণের স্রোতে নিজ দেহ ও মনকে ভাসিয়ে না দিলে সেই প্রজ্ঞার সঙ্গে প্রকৃত ‘সঙ্গম’ বা মিলন হওয়া অসম্ভব। ক্ষণভঙ্গবাদ দাবি করে যে পরম সত্যও একটি ক্ষণিক বিজ্ঞানের ঝলক মাত্র। তাই ধর্মকীর্তিশ্রী তাঁর চিরাচরিত বিরুদ্ধ রীতিতে সেই প্রজ্ঞারূপী সরস্বতী বা সত্যকেও পরিণামে ‘বিরস’ বলার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন, কারণ ক্ষণিক সত্যকে অনন্তকাল ধরে আঁকড়ে ধরে রাখা যায় না।
ধর্মকীর্তির এই অপরাধটুকুই প্রাচীন ভারতের রক্ষণশীল পন্ডিত সমাজ মেনে নিতে পারেনি। তাঁর সমগ্র জীবনের জ্ঞানান্বেষণ, ক্ষণিকের মধ্যে শাশ্বতকে খোঁজার ব্যাকুলতা এবং একমেবাদ্বিতীয় পরমার্থের সন্ধানের মূলে ছিলেন তাঁর বৌদ্ধিক গুরু তথা প্রবলতম দার্শনিক প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রীকুমারিল ভট্ট। কুমারিলকে খণ্ডন করার জন্যই ধর্মকীর্তির জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয়িত হয়েছিল, অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই বিরোধিতার মাধ্যমেই কুমারিল হয়ে উঠেছিলেন ধর্মকীর্তির জীবনের গভীরতম আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধিক প্রণয়ের কেন্দ্রবিন্দু।

Comments

Popular posts from this blog

অদ্বৈত বেদান্ত: পরিচয় পর্ব

বৌদ্ধ শাস্ত্রে হিন্দু দেবদেবী