Posts

নব্য বেদান্তবাদের তাত্ত্বিক আলোচনা..

স্বামী বিবেকানন্দের নব্য বেদান্তবাদ বা 'Neo-Vedanta' আধুনিক ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যা প্রাচীন উপনিষদীয় প্রজ্ঞা এবং আদি শঙ্করাচার্যের অদ্বৈত বেদান্তের এক যুগোপযোগী, গতিশীল, যুক্তিনির্ভর ও ব্যবহারিক রূপান্তর। প্রাচীন ভারতে বেদান্ত মূলত অরণ্যচারী সন্ন্যাসী এবং মুষ্টিমেয় পণ্ডিতদের বৌদ্ধিক চর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আদি শঙ্কর তাঁর 'ব্রহ্ম সত্য জগন্মিথ্যা' তত্ত্বের মাধ্যমে জগতকে মায়া বা অধ্যাস বলে ঘোষণা করেছিলেন, যার ফলে সমাজে একপ্রকার জগৎ-বিমুখতা বা নিবৃত্তিমার্গের আধিপত্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে, উপনিবেশবাদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ ভারতের আর্থ-সামাজিক অবক্ষয় এবং পাশ্চাত্য বস্তুবাদী দর্শনের আগ্রাসনের মুখে দাঁড়িয়ে স্বামী বিবেকানন্দ গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে অনুধাবন করেছিলেন যে, ভারতের আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ এবং জাতির মেরুদণ্ড সোজা করার জন্য একটি নতুন দার্শনিক ব্যাখ্যার একান্ত প্রয়োজন। তাঁর নব্য বেদান্তবাদ সেই ঐতিহাসিক প্রয়োজনেরই বৌদ্ধিক ফসল, যেখানে তিনি শঙ্কর-বেদান্তের কঠোর মায়াবাদকে সম্পূর্ণ বর্জন না করেও তাকে এক নতু...

বৌদ্ধ শাস্ত্রে হিন্দু দেবদেবী

বৌদ্ধ শাস্ত্র ও দর্শনে হিন্দু দেবদেবীদের অবস্থান এবং কালক্রমে লোকায়ত স্তরে তাঁদের বিবর্তন ভারতীয় সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায়। সিদ্ধার্থ গৌতম যখন বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তন করেন, তখন সমাজ মূলত বৈদিক দেবদেবী ও আচার-অনুষ্ঠানের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিল। বৌদ্ধ শাস্ত্র ও দর্শন হিন্দু দেবদেবীদের অস্তিত্বকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেনি; বরং তাদের নিজস্ব দার্শনিক ও মহাজাগতিক কাঠামোর অন্তর্ভূক্ত করে এক নতুন রূপরেখা প্রদান করেছিল। বৌদ্ধ ধর্মতত্ত্বে ঈশ্বর বা একক স্রষ্টার ধারণা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এই দর্শন অনুযায়ী, মহাবিশ্ব কর্মফল ও কার্যকারণ নীতির ওপর নির্ভরশীল, যাকে 'প্রতীত্যসমুৎপাদ' বলা হয়। তাই হিন্দু দেবদেবীদের বৌদ্ধ শাস্ত্রে স্থান দেওয়া হলেও, তাঁদের পরম সত্তা বা মোক্ষদাতা হিসেবে স্বীকার করা হয়নি। তাঁরা জন্ম, মৃত্যু এবং পুনর্জন্মের সংসার চক্রের অধীন। তাঁদের দীর্ঘায়ু এবং অলৌকিক ক্ষমতা থাকলেও, তাঁরা প্রজ্ঞার দিক থেকে বুদ্ধের সমকক্ষ নন। বৌদ্ধ দর্শনে বুদ্ধ হলেন 'দেবতাতিদেব' বা দেবতাদেরও দেবতা। দেবতারা তাঁর কাছে ধর্মোপদেশ শুনতে আসেন এবং বৌদ্ধধর্মের রক্ষক বা ...

অদ্বৈত বেদান্ত: পরিচয় পর্ব

ভারতীয় দর্শন নিয়ে কথা উঠলেই সবার আগে যে নামটা মাথায় আসে, তা হলো 'অদ্বৈত বেদান্ত' । কথাটা শুনতে একটু ভারী মনে হলেও, এর পেছনের ভাবনাটা কিন্তু দারুণ। সহজ কথায় বলতে গেলে, 'অদ্বৈত' মানে হলো 'দুই নয়' অর্থাৎ 'এক' । অর্থাৎ, এই গোটা ব্রহ্মাণ্ডে সত্যি বলতে একটাই সত্তা আছে, কোনো আলাদা বা দ্বিতীয় কিছুর অস্তিত্বই নেই। সেই অষ্টম শতাব্দীতে আদি শঙ্করাচার্য উপনিষদ আর গীতা ঘেঁটে এই দর্শনের যে চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তা আজও মানুষকে ভাবায়। অদ্বৈত বেদান্তের পুরো সারমর্মটা আসলে একটা ছোট্ট লাইনে লুকিয়ে আছে— "ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা, জীব ব্রহ্মৈব নাপরঃ" । এর মানে হলো— একমাত্র ব্রহ্মই সত্যি, আমাদের চারপাশের এই যে দৃশ্যমান জগৎ, এটা আসলে একটা বিভ্রম বা চোখের ভুল। আর আমাদের সবার ভেতরে যে আত্মা রয়েছে, সেটা কোনো আলাদা জিনিস নয়, সেটাই স্বয়ং ব্রহ্ম! ভাবা যায়? এটা শুধু ঠাকুর-দেবতার গল্প নয়, বরং 'আমি কে?' — এই খোঁজে বের হওয়ার একটা অসাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিক যাত্রা। এখন প্রশ্ন হলো, এই 'ব্রহ্ম' আসলে কী? অদ্বৈত দর্শন বলছে, ব্রহ্ম আকাশের ওপারে সিংহাস...

অদ্বৈত বেদান্ত বনাম বৌদ্ধ বিজ্ঞানবাদ এবং ক্ষণভঙ্গবাদের স্বরূপ

কৈলাস পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত মানস সরোবরের চঞ্চল স্রোতধারাই হলো কুমারব্রহ্মার বিজ্ঞানস্রোতমূর্তি। এই ‘বিজ্ঞান’ শব্দটির অর্থ বুঝতে গেলে অদ্বৈত বেদান্ত এবং বৌদ্ধ দর্শনের মৌলিক পার্থক্যের গভীরে প্রবেশ করতে হবে। অদ্বৈত বেদান্তে বিজ্ঞান বা চেতনা হলো পরম ব্রহ্মের স্বরূপ— যা কূটস্থ, নিত্য, অপরিবর্তনীয় এবং স্থির। কিন্তু বৌদ্ধ দর্শনে ‘বিজ্ঞান’ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অর্থ বহন করে। বৌদ্ধ মতানুসারে, জীবের অস্তিত্ব পাঁচটি স্কন্ধের (রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার এবং বিজ্ঞান) সমষ্টিমাত্র। এর মধ্যে অন্তিম স্কন্ধটিই হলো বিজ্ঞান বা চেতনা। এই বিজ্ঞান কোনো শাশ্বত আত্মা নয়, বরং এটি একটি অবিরাম প্রবহমান স্রোত। জীবের অন্তরের যাবতীয় সংস্কার ও কর্মফল এই বিজ্ঞানের মাধ্যমেই এক নশ্বর দেহ থেকে অপর নশ্বর দেহে প্রবাহিত হয়, যাকে পালি অভিধম্মে ‘ভবঙ্গ-সোত’ বা ভবতার স্রোত বলা হয়েছে। বৌদ্ধ দর্শনের এই ক্ষণভঙ্গবাদ বা মুহূর্তবাদের মূল কথাই হলো— জগতে কোনো কিছুই স্থির নয়। দীপশিখা যেমন প্রতিনিয়ত কম্পমান থাকে, তারার আলো যেমন স্পন্দিত হয়, মানুষের চিত্তেও ঠিক সেভাবেই একটি চিন্তা উদিত হয় এবং পরমুহূর্তেই তা বিলীন হয়ে অন্য এক চিন...

Introduction

Hello everyone, I'm Abhijit. Starting with my introduction for upcoming all blogs and launches. So, my full name is Abhijit Das. I'm 23 years old. Currently living in Purulia, West Bengal, India. After completing graduation from Jagannath Kishore College in History Honours, now I'm doing Masters in History at Sidho Kanho Birsha University. Writing is my passion and researching is my hobby. Currently I'm researching on Buddhism and it's fundamentals.